December 17, 2022

আমাদের কাছে কম্পিউটার শব্দটি অনেক পরিচিত। কেননা আমরা যারা কম্পিউটার দেখেছি বা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি তাদের কাছে এটি একটি বিষ্ময়কর যন্ত্র যা দিয়ে অনেক কিছুই করা যায় বা আমরা করে থাকি। কম্পিউটারের কার্যকলাপকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি দ্বারা মানুষ তার সকল প্রয়োজনীয় কাজ করে নিতে পারে। আর এই কম্পিউটার তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। যার মূলে রয়েছে Hardware ও Software। এই দুটি মূল বিষয়ের দ্বারাই কম্পিউটার কে গঠন করা হয়েছে। আজকে আমরা এই বিষয় দুটি সম্পর্কে কিছুটা জানার চেষ্টা করব। সেই সাথে আরও জানবো Hardware কি ও Software কি? এ দুটির মধ্যে কি ধরনের পার্থক্য রয়েছে এবং এই সম্পর্কে আরও নানান বিস্তারিত তথ্য। Hardware ও Software হচ্ছে কম্পিউটার প্রযুক্তির মধ্যে একে অপরের পরিপূরক। এর একটি ছাড়া অন্যটি অচল। অর্থাৎ হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চলতে পারে না আবার সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার চলে না। তাই একটি পূণাঙ্গ কম্পিউটার সিস্টেমে অবশ্যই এই দু্টির মাধ্যম বিদ্যমান থাকতে হবে।

Hardware কি:

কম্পিউটারের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন অবকাটামো তৈরির জন্য যে সমস্ত যন্ত্র সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তাকে কম্পিউটারের hardware বলে। অর্থাৎ কম্পিউটারের যে অংশগুলো দেখা যায়, ধরা ও ছোয়া যায়, প্রয়োজনে অন্যাত্র সরানো সম্ভম সেগুলোকেই হার্ডওয়্যার বলে। আবার এই হার্ডওয়্যারেরই বিশেষ কিছু অংশ আছে যেগুলো কম্পিউটারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেগুলোর প্রত্যেকটির বিশেষ কিছু কাজ রয়েছে এবং সেগুলো ছাড়াও কম্পিউটার সম্পূর্ণ রুপে চলতে পারে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:- ইনপুট ডিভাইস, আউটপুট ডিভাইস, বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ অংশ ও স্মৃতি সম্বলিত ব্যবস্থা মেমোরি ইত্যাদি।

এদের মধ্যে প্রধান কিছু হার্ডওয়্যারের কাজ:-

ইনপুট ডিভাইস (Input device):

কম্পিউটার দিয়ে কোন কাজ করাতে হলে আপনাকে প্রথমে এটিকে নির্দেশনা দিতে হবে আর এই নির্দেশনার কাজটি করে বিভিন্ন ধরনের ইনপুট ডিভাইস। কম্পিউটারের মাধ্যমে কাজ করাতে গেলে কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের তথ্য বা ডেটার প্রয়োজন পড়ে আর এই ডেটা বা তথ্য কম্পিউটার বিভিন্ন ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ইনপুট ডিভাইস মধ্যে রয়েছে কীবোর্ড, স্ক্যানকোড, মাউস, ট্র্যাকবল, জয়স্টিক, মাইক্রোফোন, ওয়েব ক্যাম, টার্মিনাল ও বিভিন্ন ধরনের সেন্সর। এর মাধ্যমে কম্পিউটার ইনপুট ডেটা গ্রহণ করে থাকে। এই ধরনের ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন ডেটা নিয়ে কম্পিউটার প্রক্রিয়াকরণ করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে বা দেখায়।

আউটপুট ডিভাইস (Out device):

কম্পিউটার ইনপুট ডেটা গ্রহণ করে প্রক্রিয়জাতকরণের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে যে মাধ্যমে প্রদর্শন করায় বা অনুভব করায় সেগুলোকেই আউটপুট ডিভাইস বলে। অর্থাৎ আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্য ব্যবহারকারীরা দেখতে ও শুনতে পারেন। আউটপুট ডিভাইসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:- মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার, প্রজেক্টর ইত্যাদি। প্রক্রিয়াকরণ ডেট ব্যবহারকারীর বিভিন্ন প্রয়োজন হতে পারে। যেমন: দেখা, অনুভব করা বিংবা শুনতে পারা ইত্যাদি এসকল কাজেই বিভিন্ন ধরনের আউটপুট বিভাইসের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী পেয়ে থাকেন।

প্রসেসিং ইউনিট (Processing unit of computer):

ডেটা বা তথ্য গ্রহণের পর ব্যবহারকারীকে দেখানোর আগে সেই ডেটা বা তথ্যকে প্রসেসিং করার প্রয়োজন পড়ে। আর এই প্রসেসিং এর কাজটি করে কম্পিউটারের প্রসেসিং ইউনিট। আর প্রসেসিং ইউনিটে রয়েছে Processor, RAM, ROM, ক্যাশ মেমোরি ইত্যাদি। কম্পিউটার বা সয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মতো ডিভাইসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হচ্ছে প্রসেসিং ইউনিট। এখানেই সকল প্রকার ডেটা বা তথ্য প্রক্রিয়জাতকরণ করা হয় ও তথ্যের বিশ্লেষণ করা হয়। কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ সকল যন্ত্রাংশ এই সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট এ থাকে এবং এখান থেকেই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

স্টোরেজ সিস্টেম (Storage system):

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের পর তা সংরক্ষণেরও প্রয়োজন হতে পারে। আর এ জন্য কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের মেমোরি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:- ডার্ডিস্টক, বিভিন্ন ধরনের পেনড্রাইভ, প্রাইমারি মেমোরি, সেকেন্ডারি মেমোরি, ফ্লোপি ইত্যাদি। এই ধরনের সিস্টেম ব্যবহার করে যে কোনো ডেটা বা তথ্যকে সংরক্ষণ করে রাখা যায় এবং যে কোন সময়ে প্রয়োজন মতো তা ব্যবহার করা যায়, তাই কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ অংগুলোর মধ্যে এটিও একটি যেটিকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Software কি:

কম্পিউটার প্রযুক্তির মধ্যে সফটওয়্যার অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বা মাধ্যম। এটি কম্পিউটারের সকল হার্ডওয়্যারকে নিয়ন্ত্রণ করে। সফটওয়্যার বলতে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য কম্পিউটারের ভাষায় ধারাবাহিকভাবে লিখিত কতকগুলো নির্দেশনা বা সমষ্টিগত প্রোগ্রাম। সহজ কথায় বলতে সফটওয়্যার হচ্ছে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিত ধারাবাহিক কার্যপদ্ধতি বা নির্দেশনা।

John Wilder Tukey নামক গনিতবিদ একটি তথ্য প্রযুক্তি ম্যাগাজিনে সর্বপ্রথম এই Software লেখাটির ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে John W. Seldon পৃথিবীর প্রথম সফটওয়্যার কোম্পানি Computer Usage Company (CUC) প্রতিষ্টিত করেন। এরই মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় সফটওয়্যার কোম্পানির ও বাণিজ্যিকভাবে সফটওয়্যারের ব্যবহার বা উৎপাদন।

সফটওয়্যার কম্পিউটার প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যা সরাসরি হার্ডওয়্যারগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার চলতে পারে না। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমেই কম্পিউটার তার নানান কার্যক্রম পরিচালিত করে থাকে। যাই হোক এতোক্ষণ আমরা জানলাম সফটওয়্যার কি। এবার জানবো সফটওয়্যারের প্রকারভেদ ও এ সম্পর্কে আরোও কিছু তথ্য।

সফটওয়্যার প্রধানত ২ প্রকার। যথা:

১. অপারেটিং সিস্টেম বা সিস্টেম সফটওয়্যার (Operating or System Software)।

২. এপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)।

সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software):

সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন। যার সাহায্যে পুরো হার্ডওয়্যার সিস্টেমটি পরিচালিত হয়। অর্থাৎ হার্ডওয়্যারের সবগুলো অংশকে সিস্টেম সফটওয়্যার চালাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গোটা সিস্টেমটিকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার জন্যই বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম বা সিস্টেম সফটওয়্যার তৈরি করা হয়ে থাকে।

কয়েকটি সুপরিচিত অপারেটিং বা সিস্টেম সফটওয়্যার হলো: উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ১০, ম্যাক ওস, লিনাক্স, ইউনিক্স, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট একসেস, মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার, ওরাকল ইত্যাদি।

এপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software):

Aplication software বিভিন্ন ধরনের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস, ডেক্সটপ ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমে অতিরিক্ত কাজের জন্য তৈরিকৃত অ্যাপ্লিকেশন। যার মাধ্যমে মূল সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশা-পাশি আমরা আরও কিছু অতিরিক্ত কাজের সুবিধা পেয়ে থাকি। বিভিন্ন ধরনের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ (Android app), অ্যাপল অ্যাপ (Apple app) ও ডেক্সটপ ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

সফটওয়্যারের ব্যবহার:

কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা ও পরিচালনায় দুটি জিনিস অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে হার্ডওয়্যার ও অপরটি হচ্ছে সফটওয়্যার। এই দুটি জিনিস ওতোপ্রোতভাবে জড়িত, একটি ছাড়া অন্যটি অচল। শুরুতে শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ব্যবহার করেই কম্পিউটার তৈরি করা হতো কিন্তু তাতে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা অনেক কম ও আকারে অনেক বড় হয়ে যেত।

কিন্ত পরবর্তীতে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে সফটওয়্যারের ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে থাকে। তৈরি হতে থাকে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির সব কম্পিউটার সিস্টেম। এতে করে সফটওয়্যারের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নতুন গড়ে উঠে ও নির্ভশীলতা অনেকটা বেড়ে যায়। বর্তমানে শুধু হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে কোন কিছুই তৈরি করা হচ্ছে না বরং হার্ডওয়্যারের সাথে সফটওয়্যারের মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কম্পিউটার প্রযুক্তিসহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তিগত ডিভাইস।

এর ফলে আমরা বর্তমান যুগে পাচ্ছি সব আধুনিক ও উন্নত সুবিধা-সংবলিত ডিভাইস, যার মাধ্যমে আমাদের জীবন-জীবিকার মান উন্নত হচ্ছে। পরিবহন থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন, ভার্চ্যুয়াল জগত, খেলাধুলা, একে অপরের সাথে যোগায়োগ এধরনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই আমরা সফটওয়্যার ব্যবহার উপল্বধি করতে পারছি। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে যার ফলে আমাদের দৈন্দিন কার্যক্রম আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে।

শেষ কথা:

আজকে আমরা জানলাম Hardware ও Software কি। এই দুটি বিষয় আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জীবন-যাত্রা কতটা সহজ হয়েছে এই ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ণের ফলে। সেই সাথে জানলাম কম্পিউটারে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহার কোন ধরনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংমিশ্রণে নিত্যনতুন তৈরি সফটওয়্যারগুলো ভবিষতে আমাদের জন্য আরও সুযোগ ও সুবিধা তৈরি করবে যা আমাদের পৃথিবীকে নতুন একটি রুপ দিবে।

শেয়ার করুন!

লেখক সম্পর্কে:

স্বাগতম! আমাদের ওয়েব সাইট ঘুরে দেখার জন্য। আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের কন্টেন্টগুলো লিখি।

আপনার মতামত লিখুন!

Your email address will not be published. Required fields are marked

{"email":"Email address invalid","url":"Website address invalid","required":"Required field missing"}
error: বিষয়বস্তু কপিরাইট সুরক্ষিত !!