কম্পিউটার ভাইরাস একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম। যা বাইরের উৎস থেকে কম্পিউটারের ম্যামোরিতে প্রবেশ করে ও গোপনে এর বিস্তার লাভ করে ও সেই সাথে মূ্ল্যবান প্রোগ্রাম, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করে। অনেক সময় ভাইরাসের ব্যবপক বিস্তারের ফলে বায়োসের (BIOS) এর প্রোগ্রাম মুছে দিয়ে কম্পিউটারকে অচল করে দেয়। কম্পিউটার ভাইরাস হচ্ছে এমন এক ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম যা ধ্বংসকারী/সন্ত্রাসী হিসেবে নিজেকে (অর্থাৎ “এক্সিকিউটেবল অংশ”) অন্যান্য প্রোগ্রামের সাথে মিলে-মিশে এর সংক্রমণ ঘটায় এবং পর্যায়ক্রমে বিস্তৃতির মাধ্যমে পুরো সিস্টেম কে গ্রাস করে।

বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস:

 ১.  ট্রোজান হর্স ভাইরাস (Torjan Horse Virus)

 ২.  কমান্ড পারপাস ভাইরাস (Command Purpose Virus)

 ৩.  ম্যাক্রো ভাইরাস (Macro Virus)

 ৪.  পার্টিশন সেক্টর ভাইরাস (Partition Sector Virus)

 ৫.  ওভার রাইটিং ভাইরাস (Over Writing Virus) ইত্যাদি।

কম্পিউটার ভাইরাস নামটির সাথে পরিচিত আরও বেশ কিছু ভাইরাসের নামও পরিচিত। যেমন:

 ৬.  ম্যালওয়্যার (Malware)

 ৭.  কম্পিউটার ওয়ার্ম (Computer Worm)

 ৮.  স্পাইওয়্যার (Spyware)

 ৯.  অ্যাডওয়্যার (Adware)

 ১০.  ক্রাইমওয়্যার (Crimeware) ইত্যাদি।

যেসব লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত:

মানুষের নানান রোগ-ব্যধির ন্যায় ভাইরাস সংক্রমণেরও নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ রয়েছে। নীচের বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার ডিভাইসে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন যে আপনার কম্পিউটার বা ডিভাইজ ভাইরাসে আক্রান্ত।

 ১.  কম্পিউটার চালু করার সময় পূর্বের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়।

 ২.  হঠাৎ করে কম্পিউটারে ব্যবহার করা সফটওয়্যারের EXE ও COM ফাইলের সাইজ বেড়ে যাওয়া।

 ৩.  হঠাৎ করে আপনার কম্পিউটার হতে কিছু ফাইল হারিয়ে যাওয়া অথবা একসাথে কিছু সংখ্যক ফাইলের নাম পরির্বতন হয়ে যাওয়া।

 ৪.  হার্ড ড্রাইভের নাম হঠাৎ করেই পরিবর্তন হয়ে যাওয়া।

 ৫.  ফাইল-ফোল্ডারে কিছু অংশে অবাঞ্হিত বা অপিরিচিত চিহ্ন বা বার্তা দেখা।

 ৬.  অস্বাভাবিকভাবে স্ক্রিনে Command Prompt এ কিছু এরর দেখা বা কোন কিছু Install হচ্ছে বলে মনে হওয়া। হঠাৎ করে কম্পিউটার স্ক্রীনে কোন বার্তা দেখা।

 ৭.  কোন ড্রাইভে ডুকতে বা অ্যাক্সেস করতে প্রয়োজনীয় সময়ের বেশি সময় নেওয়া।

 ৮.  বিভিন্ন ফাইল-ফোল্ডারের নামের শেষে .EXE, .COM ও অন্যান্য অপরিচিত এক্সটানশণ দেখা দেওয়া।

 ৯.  কম্পিউটারে স্বাভাবিক কার্যক্রম ধির গতি (Slow) হয়ে যাওয়া।

 ১০.  কম্পিউটার ঘনঘন হ্যাং হয়ে যাওয়া এবং কখনো কখনো আপনা-আপনি শাট-ডাউন হয়ে যাওয়া।

software piracy

Software piracy কি? এর ফলে কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে আপনার ডিভাসের?

Software piracy সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ও পাইরেটেট সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে আপনার ডিভাইসগুলো কি ধরনের ক্ষতির বা ঝুকির মধ্যে পড়তে পানে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে!

কিভাবে ভাইরাস থেকে আপনার কম্পিউটারকে রক্ষা করবেন বা ভাইরাস প্রটেকশনের উপায়:

আমাদের কম্পিউটার বিভিন্নভাবে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয় কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরণের ক্রাক সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন ধরণের ফিশিং এর শিকার হয়ে আমাদের কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। যাই হোক এখানে আমরা জানবো কিভাবে আমরা আমাদের কম্পিউটারকে ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখবো।

 ১.  আমরা সবসময় আপটেডেট এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করব। দামে সস্তা ও অনেক পুরনো ভার্সনের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারের ব্যবহার থেকে বিরত থাকবো।

 ২.  ইন্টারনেট বা ল্যান ব্যবহারের পূর্বে এন্টিভাইরাস ও ফায়ারওয়াল চালু করে রাখব।

 ৩.  পাইরেটেড (ক্রাক) সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবো। খুব বেশি প্রয়োজন হলে বিশ্বাস যোগ্য সোর্স থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহার করবো।

 ৪.  প্রয়োজনীয় ও অতিগ্রুত্বপূর্ণ সব প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের COM ও EXE ফাইল Read Only করে রাখবো।

 ৫.  মাঝে-মধ্যে কম্পিউটারের পুরো সিস্টেমটিকে এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করে নিব।

 ৬.  উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ও এন্টি ভাইরাস কখনই অফ করে রাখবো না।

 ৭.  বাইরের ডিস্ক, ফ্লাশ ড্রাইভ, পেন ড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ও অন্যান্য ডিভাইস কম্পিউটারে ব্যবহার করার পূর্বেই এন্টিভাইরাস দ্বারা স্ক্যান করে নিন।

 ৮.  ইমেইল ব্যবহারে বিশেষ সর্তক থাকা আবশ্যক। ইমেইলে অপরিচিত অ্যাটাচমেন্ট ফাইল খোলার ব্যাপারে সর্তক হওয়া উচিৎ।

 ৯.  ডিস্ক রাইট প্রটেক্ট না করে অন্য কোন ডিভাইজ বা কম্পিউটারে ব্যবহার না করা।

 ১০.  আপনার কম্পিউটারে ব্যবহ্নত অপারেটিং সিস্টেমটি নিয়মিত আপডেট করা অথবা সর্বশেষ ও আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা।

ভাইরাস প্রতিরোধে আপনার কম্পিউটারে চাই শক্তিশালী এন্টিভাইরাস প্রটেকশন প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার। তবে শুধুমাত্র এন্টিভাইরাস ব্যবহার করলেই হবে না সেগুলি হতে হবে আধুনিক ও সর্বশেষ ভার্সনের। সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন যায়গায় নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ভাইরাসের উপর গবেষনা ও বিশ্লেষণ করে এদের প্রতিষোধক অর্থ্যাৎ এন্টিভাইরাস তৈরি করা হচ্ছে।

SmadAV Pro একটি 2nd layer এন্টিভাইরাস। এটি বিনামূল্যেই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন এবং সেই সাথে প্রিমিয়াম সার্ভিস নিয়ে আপনার কম্পিউটারকে সর্বাধিক সুরক্ষিত করতে পারবেন। 

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত কয়েকটি এন্টিভাইরাস হলো:

 ১.  এভিজি (AVG

 ২.  অ্যাভাস্ট (AVAST)

 ৩.  আভিরা (Avira)

 ৪.  ক্যাসপারেস্কি (Kaspersky)

 ৫.  ম্যাকএফির ভাইরাস স্ক্যান (MacAffy’s Virus Scan)

 ৬.  নর্টন এন্টিভাইরাস (Norton Anti Virus - NAV)

 ৭.  আইবিএম এন্টিভাইরাস (IBM Anti Virus)

 ৮.  পিসি সিলিন (PC Cillin)

 ৯.  ইসেট নড৩২ (Eset NOD32)

 ১০.  বিটডিফেন্ডার (Bitdefender)

 ১১.  কোবরা (Cobra)

 ১২.  কমোডো এন্টিভাইরাস (Comodo Anti Virus)

 ১৩.  পিসি টুলস এন্টিভাইরাস (PC Tools Anti Virus)

 ১৪.  জোনএলার্ম এন্টিভাইরাস (ZoneAlarm Anti Virus)

 ১৫.  পান্ডা এন্টিভাইরাস (Panda Anti Virus)

এছাড়াও বাজারে অনেক ধরণের এন্টিভাইরাস বাণিজ্যিকভাবে কিনতে পাওয়া যায় এবং সেগুলির আপডেট ভার্সনও একই কোম্পানির ওয়েব সাইট হতে সহজেই পাওয়া যায়। আবার কিছু কিছু এন্টিভাইরাস বিনামূল্যেও পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন!

লেখক সম্পর্কে:

স্বাগতম! মো: নাজমুল ইসলাম একজন ওয়েব ডেভলোপার। আমি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডপ্রেস, পিএইচটি, পাইথন ও অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা নিয়ে কাজ করছি। এই ওয়েব সাইটে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেরা কন্টেন্ট লিখব ইনশাআল্লাহ!

আপনার মতামত লিখুন!

Your email address will not be published. Required fields are marked

{"email":"Email address invalid","url":"Website address invalid","required":"Required field missing"}
error: বিষয়বস্তু কপিরাইট সুরক্ষিত !!