আমরা প্রতিনিয়ত ব্যক্তিগত বা অফিসের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করি। কম্পিউটার ব্যবহারের সময় প্রায়ই আমরা অনেক ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হই। আর সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হই অকারণে কম্পিউটারে গতি বা পারফরম্যান্স কমে (স্লোলো হয়ে) যাওয়া। এ ধরণের সমস্যা আপনার কম্পিউটারে ব্যবহৃত র‍্যাম, রোম, হার্ডডিস্কের সমস্যা ছাড়াও অনেক কারণে হয়ে থাকে। তবে কোন ডিভাইজের সমস্যা ছাড়াও আপনার কম্পিউটার অপ্রয়োজনীয় অনেক ফাইল-ফোল্ডার বা ক্যাশ-ফাইল জমেও আপনার কম্পিউটারের গতি অনেকটা কমে যেতে পারে। এছাড়াও এমন অনেক প্রোগ্রাম চালু থাকে যেগুলি আপনার কাজের সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়।

আজ আমরা এমন কিছু জানবো বা করার চেষ্টা করবো যাতে আমাদের কম্পিউটারের গতি বা পারফরম্যান্স অন্তত ১০ গুন বৃদ্ধি পায়। আমরা একে একে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আমাদের কম্পিউটারের গতি অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলবো।

কম্পিউটারের পারফরম্যান্স বাড়াতে নিচের পদ্ধতিগুলি পর্যায়ক্রমে অনুস্বরণ করুন:

আমরা এই পদ্ধতিগুলো পর্যায়ক্রমে একের পর এক অনুস্বরণ করবো। এখানে এমন কিছু পদ্ধতি আছে সেগুলি আপনাকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই-দিন করে করতে হবে।

১. পাওয়ার অপশন:

উইন্ডোজ ১০ অথবা যেকোন উইন্ডোজ ভার্সনের সার্চ কন্ট্রোল প্যানেল থেকে সার্চ করে Power Option সিলেক্ট করুন অথবা Control Panel> Hardware and Sound> Power Options যান এবং Power Option সেটিংস পেজ হতে “High performance” নির্বাচন করুন।

আপনি যখন প্রতিবার আপনার কম্পিউটার নতুন করে চালু করবেন তখন এই অপশনটি একবার চেক করে নিবেন। অনেক সময় আপনার কম্পিউটার ডিফল্টভাবে “Balance performance” হয়ে থাকে।

তবে উইন্ডোজ hibernate বা Sleep মোড অবস্থায় কম্পিউটার চালু থাকলে এর প্রয়োজন পড়বে না।

Search Power Option - www.answerandsolution.com
Windows Power Option  - www.answerandsolution.com

২. অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো ডিজেবল করা:

অনেক সময় আমাদের কম্পিউটারে ডিফল্টভাবে অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার চালু থাকে। যা Task Manager এ গেলে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো দেখতে পাবেন বা খুঁজে পাবেন।

Task Manager এ যেতে Task বারের যে কোন ফাঁকা যায়গায় রাইট বাটন ক্লিক করলে বিভিন্ন অপশন দেখা যাবে। সেখান থেকে Task Manager অপশনে ক্লিক করলে Task Manager এ যাওয়া যাবে।

সেখানে অটোমেটিকভাবে আপনার উইন্ডোজে কি কি ধরণের প্র্রোগ্রাম চালু রয়েছে দেখতে পাবেন। এখানে দেখতে পাবেন এমন অনেক প্রোগ্রাম চালু রয়েছে সেগুলি আপনার বর্তমান কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। তা নির্বাচন করে “End Task” করে দিলে সেগুলোর জন্য আর আপনার কম্পিউটার ডেটা খরচ করবে না।

Task Manager - www.answerandsolution.com
Task Manager Program

৩. অপ্রয়োজনীয় টেমপোয়ারি ফাইল:

আমাদের কম্পিউটার অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় টেমপোয়ারি ফাইল তৈরি হয়। সেগুলি ডিলিট করতে “Start Menu” থেকে Window আইকোনে ক্লিক করে “Run” অপশনে যেতে হবে অথবা কী বোর্ড থেকে Windows বাটনের সাথে “R” কী একসাথে চাপলে Run অপশন চালু হবে।

Run Option

Run Option

ক) Run অপশনের ইনপুট বক্সে “temp” লিখে OK করলে কিছু সংখ্যক ফাইল-ফোল্ডার দেখা যাবে যেগুলি সিলেক্ট অল করে ডিলেট বাটনে ক্লিক করলে “File Access Denied” অপশন দেখাবে “Do this for all current item” চেকমার্ক করে “Continue” বাটনে ক্লিক করলে সমস্ত টেমপোয়ারি ফাইল-ফোল্ডার ডিলিট হয়ে যাবে।

খ) পুনরায় Run অপশনে গিয়ে ইনপুট বক্সে “%temp%” লিখে একই প্রক্রিয়া অনুস্বণ করে এই ফাইল-ফোল্ডারগুলোকেও ডিলিট করে ফেলতে হবে।

Windows Run Option - www.answerandsolution.com

গ) আবারও Run অপশনে গিয়ে ইনপুট বক্সে “prefetch” লিখে OK করলে Prefetch window দেখবে সেখানে থেকে “Continue” বাটনে ক্লিক করে (ক) এর প্রক্রিয়াগুলো অনুস্বরণ করতে হবে।

Windows prefetc

৪. মেমোরি ক্লিন:

আবারও Run অপশনে গিয়ে ইনপুট বক্সে “cleanmgr” লিখে OK করলে “Disk Cleanup | Drive section” window চলে আসবে সেখানে থেকে একটা একটা করে ড্রাইভ সিলেক্ট করে সব অপশনে চেকমার্ক দিয়ে OK করলে আপনার ডিস্ক ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এখানে আপনার শুধমাত্র অপ্রয়োজনীয় ফাইল-ফোল্ডারগুলো ডিলিট হয়ে যাবে। আপনার কোন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট হবে না।

Windows Cleanmgr

৫. Defragment and optimize drives:

এখানে যেতে হলে আপনাকে Star Menu থেকে Defragment and optimize drives সার্চ করে “Optimize drives” এ যেতে হবে। সেখান থেকে একটি করে ড্রাইভ নির্বাচন করে “Optimize” করার পরে “Analyze” করতে হবে।

Defragment and optimize drives

৬. Msconfig:

পুনরায় আবার Run অপশনে গিয়ে ইনপুট বক্সে “msconfig” লিখে OK করলে “System configuration” window আসবে। সেখান থেকে Services ট্যাবে গিয়ে “Hide all Microsoft services” আপশনে চেকমার্ক দিয়ে Ok করতে হবে।

Windows msconfig

৭. Registry Tweaks:

আবারও Run অপশনে গিয়ে ইনপুট বক্সে “regedit” লিখে OK করলে “Registry Editor” window আসবে। সেখান থেকে “HKEY CURRENT USER” অপশন থেকে Control Panel এ যেতে হবে।

ক) Control Panel থেকে Mouse অপশনে ডাবল ক্লিক করতে হবে এবং ডানপাশ থেকে “MouseHoverTime” সিলেক্ট করে “Value Data” এর যায়গায় 10 লিখে OK  করতে হবে।

খ) এরপর ) Control Panel থেকে Desktop অপশনে ডাবল ক্লিক করতে হবে এবং ডানপাশ থেকে “MenuShowDeley” সিলেক্ট করে “Value Data” এর যায়গায় 10 লিখে OK  করতে হবে।

Windows Registry Tweaks

৮. ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট:

Start Menu থেকে System সার্চ করে System option এ যেতে হবে। সেখান থেকে Advanced system settings ক্লিক করলে “System Properties” window চলে আসবে এবং Advance ট্যাবে Performance সেকশন থেকে Settings ক্লিক করতে হবে এবং সেখান থেকে Custom সিলেক্ট করে শুধুমাত্র Show shadows under mouse pointer ও Smooth edges of screen fonts এ চেকমার্ক রেখে Apply তে ক্লিক করে OK করলেই হয়ে যাবে।

Advanced system settings - www.answerandsolution.com

এরপর কম্পিউটার Restart করলে আপনার কম্পিউটার আমরা আশা সুপার ফ্যাস্ট হয়ে যাবে। আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুন কম্পিউটার গতি বা পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পাবে। এই সম্পর্কে কোন সমস্যায় পড়লে আমাদের কমেন্ট করুন অথবা আমাদের Contact Page এ যোগাযোগ করুন।

শেয়ার করুন!

লেখক সম্পর্কে:

স্বাগতম! মো: নাজমুল ইসলাম একজন ওয়েব ডেভলোপার। আমি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডপ্রেস, পিএইচটি, পাইথন ও অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষা নিয়ে কাজ করছি। এই ওয়েব সাইটে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেরা কন্টেন্ট লিখব ইনশাআল্লাহ!

আপনার মতামত লিখুন!

Your email address will not be published. Required fields are marked

{"email":"Email address invalid","url":"Website address invalid","required":"Required field missing"}
error: বিষয়বস্তু কপিরাইট সুরক্ষিত !!